_______নিকৃষ্ট আলেম যারা________।
________জ্ঞান গোপনকারী আলেম জাহান্নামী________ রাসুল (সাঃ) অহী মারফত জানতেন যে, একদল আলেমের জন্ম হবে যারা দ্বীনের ব্যাপারে যথেষ্ট জ্ঞান অর্জন করবে কিন্তু সে জ্ঞানকে দুনিয়াবী স্বার্থে ব্যবহার করবে, জেনে শুনে ইলম গোপন করবে, যালিম-কুফফার শাসকদের বিরুদ্ধে কথা বলবেনা। তাই তিনি আমাদেরকে এই সব দুনিয়ালোভী আলেমদের ব্যাপারে সতর্ক করে গেছেন।
রাসুল (সাঃ) বলেছেনঃ “তিন শ্রেণীর মানুষকে সর্ব প্রথম জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। তার মধ্যে:- প্রথম শ্রেণীটা হলঃ একদল জ্ঞাণী আলেম যারা দুনিয়াবী স্বার্থে ইলম গোপন করতো এবং যালিম শাসকদের বিরুদ্ধে কথা বলতো না।" (সংক্ষেপিত)। ***জামে আত তিরমিযী।
________আলেম দুই শ্রেণীর________ রাসূল (সাঃ) আরও বলেছেনঃ "তোমরা আমাকে মন্দ জিনিস সম্পর্কে জিজ্ঞেস করো না বরং ভাল জিনিস সম্পর্কে জিজ্ঞেস করো।তিনি এই কথা তিনবার বললেন। পরে বললেনঃ 'তোমরা জেনে রাখ সব খারাপের মাঝে সবচেয়ে বড় খারাপ হচ্ছে আলেমদের মাঝে যারা খারাপ তারা আর সব ভালোর মাঝে সবচেয়ে ভাল হলো আলেমদের মাঝে যারা ভালো তারা।" ***দারেমী, মিশকাত আল মাসাবীঃ পৃষ্ঠাঃ ৩৭।
________নিকৃষ্ট আলেম যারা________ রাসূল (সাঃ) বলেছেনঃ "আল্লাহ তাআ'লার নিকট সবচেয়ে নিকৃষ্ট আলেম তারা যারা সম সাময়িক শাসকগোষ্ঠীর(স্বৈরাচারী) দরবারে যাতায়াত করে।" ***ইবনে মাযাহ।
________কুরআনের লিখিত রূপটি ছাড়া কিছুই থাকবে না________ হযরত আলী (রাদিঃ) থেকে বর্ণিতঃ রাসূল (সাঃ) বলেছেনঃ ''আমি অচিরেই লোকদের উপর এমন একটি সময় আসার আশংকা করছি যখন কেবলমাত্র নাম ছাড়া ইসলামের আর কিছুই থাকবে না এবং কুরআনের লিখিত রূপটি ছাড়া তার বাস্তবায়ন থাকবে না। মসজিদগুলো চাকচিক্যে ভরপুর হলেও হিদায়াত থেকে বঞ্চিত হবে। ঐ সময়কার আলেমরা হবে আসমানের নিচে বিচরণকারী সর্ব নিকৃষ্ট জীব। তাদের থেকেই বিভিন্ন ফিৎনা ছড়াবে এবং তারা নিজেরাও সেই ফিৎনায় আবর্তিত হবে।''
***বায়হাকী, শু'আবুল ঈমান। হাদিস সহীহ।
________কুরআন এবং সুন্নাহ'র অর্জিত শিক্ষা ত্যাগকারী আলেম________ শায়খূল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমিয়া (রহিঃ) বলেছেনঃ “যদি কোন শায়খ কুরআন এবং সুন্নাহ হতে অর্জিত শিক্ষা অনুযায়ী আমল ত্যাগ করে এবং এমন বিচারকের অনুসরণ করে যে আল্লাহ তা'আলা ও তাঁর রাসূলের শিক্ষা অনুযায়ী বিচার করেনা, তখন সে একজন ধর্মত্যাগী এবং কাফের হিসেবে বিবেচিত হবে, যে দুনিয়া ও আখিরাতে শাস্তি পাওয়ার উপযুক্ত।“ ***আল ফাতওয়া, ইবন তাইমিয়া, খন্ডঃ ৩৫, পৃষ্টাঃ ৩৭৩।
Abdullah Al Hadi
আমাদের দেশের যেসব ফতোয়াবাজরা/দরবারি আলেমরা ফতোয়া দিয়েছে ইসলাম কখনোই কঠোর হতে নির্দেশ দেয় নি। কারণ, ইসলাম হল শান্তির ধর্ম। আসলে তারা শান্তি বলতে কি বুঝে ? ১০০% তারা নিজেও জানে না শান্তির প্রকৃত মর্মার্থ বা শান্তির ধর্ম বলতে কি বোঝানো হয়েছে।
আবার তারা তো নাকি ইসলামি হুকুমত প্রতিষ্ঠা বা ইসলামি সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে চান(!)
কি জন্য বললাম তা একটিবার অনুধাবনের চেষ্টা করুন।
পহেলা বৈশাখের তান্ডবলীলা সারাদেশব্যাপী যেভাবে ছড়িয়েছে দেখলাম তাতে করে
বুঝলাম যে, এই ফতোয়াবাজরা এতদিন মিথ্যা কথা বলে এসেছিল যে, তারা নাকি
মানুষদের মাঝে ইসলামের দাওয়াত দিচেছ ?
কারণ, আমারও বিশ্বাস যে, এদেশে মুসলিমদের যদি সত্যিকার ইসলামের দাওয়াত দেয়া হত তবে এমন কখনোই হত না। তারা সত্যিই সঠিক পথে ফিরে আসত। মানে বোঝাতে চাচ্ছি যে, এসব দরবারি আলেমরা কোন সঠিক ইসলামের দা্ওয়াতই দেয় নি। তারা তাদের প্রভুদের(আমিরিকা, ইসরাইল ও তাদের পদলহী কুফফার ও মুশরিকদের) মনোবাসনা পূর্ণ করে এসেছিল এতদিন। যার কারণে, তারা সত্যিকারের তাওহীদের সঠিক দাওয়াত মুসলিমদের মাঝে পৌঁছে দেয় নি।
যদি সঠিক ইসলামের দাওয়াত দিত তবে আমার মুসলিম ভায়েরা এতটা পথভ্রষ্টতায় মগ্ন হত না। একটিবার চেয়ে দেখুন, স্বয়ং আল্লাহর রাসূল(স.) কাফের ও মুশরিকদের ইসলামের দাওয়াত তথা তাওহীদের দাওয়াত দেয়ার পর তারা সঠিক পথে ফিরে এসেছে। আর আমাদের আলেমদের দাওয়াতের অবস্থা কি ! ! !
প্রশ্ন জাগে, এসব আলেমরা কি সত্যিকারের দাওয়াত মানুষের নিকট দিচ্ছে ?!
কারণ, আমারও বিশ্বাস যে, এদেশে মুসলিমদের যদি সত্যিকার ইসলামের দাওয়াত দেয়া হত তবে এমন কখনোই হত না। তারা সত্যিই সঠিক পথে ফিরে আসত। মানে বোঝাতে চাচ্ছি যে, এসব দরবারি আলেমরা কোন সঠিক ইসলামের দা্ওয়াতই দেয় নি। তারা তাদের প্রভুদের(আমিরিকা, ইসরাইল ও তাদের পদলহী কুফফার ও মুশরিকদের) মনোবাসনা পূর্ণ করে এসেছিল এতদিন। যার কারণে, তারা সত্যিকারের তাওহীদের সঠিক দাওয়াত মুসলিমদের মাঝে পৌঁছে দেয় নি।
যদি সঠিক ইসলামের দাওয়াত দিত তবে আমার মুসলিম ভায়েরা এতটা পথভ্রষ্টতায় মগ্ন হত না। একটিবার চেয়ে দেখুন, স্বয়ং আল্লাহর রাসূল(স.) কাফের ও মুশরিকদের ইসলামের দাওয়াত তথা তাওহীদের দাওয়াত দেয়ার পর তারা সঠিক পথে ফিরে এসেছে। আর আমাদের আলেমদের দাওয়াতের অবস্থা কি ! ! !
প্রশ্ন জাগে, এসব আলেমরা কি সত্যিকারের দাওয়াত মানুষের নিকট দিচ্ছে ?!
আপনার জ্ঞাতার্থে বলতে চাই-
যারা মুজাহিদ/জঙ্গী তারা কোন দলের নয়।
এরা হল এক একটা গোষ্ঠী। যাদের কাজই হল- ইসলামের শত্রুদের সর্বোচ্চ প্রতিহত করা এবং ইসলাম প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে বাধা সমূহকে দূরীভূত করে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা।
এদের উদ্দেশ্য কোন ক্ষমতা লাভ করা নয়। এরা লড়াই করে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে। আর আশা করে পরকালীন সম্মানজনক্ মুক্তি।
জ্বলছে আরাকান,থাইলান্ড ,ভিয়েতনাম ,কাশ্মীর ,আসাম প্রভূতি অঞ্চল। আহ! কি করুণ অস্তিত্ব সংকটের সম্মুখিন মুসলিম উম্মাহ ।পবিত্র কাবার দেশ আজ অপবিত্র জাতির আস্তাবলে রুপান্তরিত । পবিত্র আকসার দেশ আজ অপবিত্র জাতির পদভারে পদদলিত ।হায়রে অভাগা জাতি-অথচ তোমাদের হাতের অস্ত্রের নিচেই আজ বিশ্বশান্তি লুকিয়ে আছে, এটা তোমরা জেনেও কিসের আশায় , কিসের টানে,আজও জাগছো না? বুক টান করে অস্ত্র হাতে বেরিয়ে পড়ছোনা ?
যে জাতির ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায় , একজন নির্যাতিত বোণের করুণ আর্তনাদ শুনে শত শত মাইল ধুষর মরুভূমি ,পাহাড়-পর্বত এবং নদ-নদী পাড়ি দিয়ে তরুণ মুজাহিদ মুহাম্মদ বিন কাসিম এসে সিন্ধু বিজয় করেছেন। নির্যাতিত বনী আদমের করুণ আর্তনাদ শুনে সূদুর স্পেনে ইসলামের ঝান্ডা উড়িয়েছেন তারিক বিন যিয়াদ । আল্লাহর দ্বীনকে বিজয়ী করার জন্য প্রাণপণ লড়েছেন খালিদ বিন ওয়ালিদ ,মুসা বিন নুসাইর্,ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মদ বিন বখতিয়ার খিলজী । ইসলামের দুশমন ইংরেজ বেনিয়াদের বিরুদ্ধে আমরণ জিহাদ করেছেন শাহ ইসমাঈল শহীদ (রহ) ,হাজী শরীয়তুল্লাহ ,সাইয়্যেদ নিসার আলী তিতুমির, যাদের ভয়ে কাফের –মুশরিকরা কাঁপত ! আজ তাদের স্মৃতি কি অম্লান হয়ে যাবে ? আমাদের শরীরে কি সেই রক্ত ধারা প্রবাহিত নেই? তবে আর বসে থাকা কেন ? একটি বার তাকিয়ে দেখুন।
ইহুদী-খৃষ্টান,মুশরিক (বৌদ্ধ ,হিন্দু)এবং তাদের তাবেদার ত্বাগুত শাসকগোষ্ঠী ;মুসলিম জাতির উপর দানবের ভূমিকায় অবর্তীণ হয়েছে। নারী-পুরুষ ও শিশুদের লোমহর্ষক ভাবে হত্যা ,ধর্ষণ ,গুম ও চরম নির্যাতন –নিস্পেষণের স্টীম রোলার চালাচ্ছে । শত শত মসজিদ মাদরাসা ধ্বংস ,হাজার হাজার মুসলিমদের হত্যা, অসংখ্য মা-বোনদের ইজ্জত লুন্টন করছে । তবুও কি আমাদের জেগে ওঠার সময় হয়নি।
ওহে মুসলিম শার্দূলেরা ! বিলাসিতার চাদর গায়ে তোমরা কি ঘুমিয়ে পড়েছ? পাপাচারের কালো মেঘ তোমাদের চলার পথকে কি অন্ধকারচ্ছন্ন করে দিয়েছে ?
নাকী সুন্দরী নারীদের চুল তোমাদের পায়ে শিকল লাগিয়েছে ,হাত দুটি বেঁধে দিয়েছে ?
তোমরা কিসের নেশায় , কিসের লোভে আজ তোমাদের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে লিপ্ত হতে ভয় পাও? কেন তোমরা এখনও বেড়িয়ে পড়ছনা?
জাতির হে তরুণেরা! তোমাদের সামনে আজ কঠিন বাধা। এ বাধাকে পেরিয়ে যেতেই হবে। কারণ আল্লাহর দুশমনরা নির্বিচারে মুসলমানদের হত্যা করছে ,মসজিদ্,মাদরাসা জ্বালিয়ে দিচ্ছে । শত শত মুসলিম মুজাহিদদেরকে বন্দী করেছে । ওদের সমুচিত শাস্তি দিতে হবে।
আল্লাহর দুশমনদের এ পৃথীবিতে বেঁচে থাকার কোন অধিকার নেই । সময় এসেছে এ অপশক্তিকে নির্মূল করার।
ওহে সত্যের সৈনিকরা ! বেড়িয়ে পড় অস্ত্র হাতে আল্লাহর রাহে মুসলিম জাতির মুক্তির জন্য ,দ্বীন ইসলামকে কায়েম করার জন্য,মাজলুম মুসলিমদের উদ্ধারের জন্য, প্রমাণ করে দিতে হবে মুসলিমদের ঈমানী চেতনা বিলুপ্ত হয়ে যায়নি। আমাদের শরীরের রক্ত এখনও হিমশীতল হয়নি। আল্লাহ তায়ালা বলেনঃ
انْفِرُوا خِفَافًا وَثِقَالًا وَجَاهِدُوا بِأَمْوَالِكُمْ وَأَنْفُسِكُمْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ ذَلِكُمْ خَيْرٌ لَكُمْ إِنْ كُنْتُمْ تَعْلَمُونَ
আল্লাহ তাআলা আমাদের সেই তাওফীক দান করুণ, আমিন।
-- ইসাবাহ মিডিয়া
আমেরিকা ও ইসরাইল আমাদের সাধারণ মুসলমানদেরকে দিন-রাতে হত্যা করে যাচ্ছে। তারা দখলদার ইসরাইলের মাধ্যামে ৫০ বছরের ও বেশী সময় ধরে ফিলিস্তিনে আমাদের সাধারণ মুসলমানদেরকে হত্যা করে যাচ্ছে। তাদের ঘর বাড়ি বোমা মেরে, বুলডোজার দিয়ে গুড়িয়ে দিচ্ছে। আর আফগানিস্তান, ইরাক ও সিরিয়ার কথা কি বলবো! সেখানে তারা হাজার হাজার নিরপরাধ সাধারণ মুসলমানদেরকে হত্যা করেছে। তারা সোমালিয়ায় ১৩ হাজার মুসলমানকে হত্যা করেছে ও সুদানে গনহত্যা চালিয়েছে।
এককথায় সারা বিশ্বে এই আমেরিকা আমাদের মুসলমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত। মুসলমান, মুজাহিদদেরকে হত্যা, গ্রেফতার ও নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছে।
তারা যেমন আমাদের ক্ষেত্রে সীমালঙ্ঘন করেছে আমরাও তাদের ক্ষেত্রে সীমালঙ্ঘন করা বৈধ। এ ব্যাপারে আল্লাহ তাআলা বলেন:
(فَمَنِ اعْتَدَى عَلَيْكُمْ فَاعْتَدُوا عَلَيْهِ بِمِثْلِ مَا اعْتَدَى عَلَيْكُمْ)
“সুতরাং যে তোমাদের উপর সীমালঙ্ঘন করে তাদের উপরও তোমরা সীমালঙ্ঘন করো যেমন সীমালঙ্ঘন তারা তোমাদের উপর করেছে”। (সূরা বাকারাহ-১৯৪)
হাদিসটির সঠিক ব্যাখ্যা কেউ কি দিবেন ? হাদিসে বর্ণিত হয়েছে।
أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أُمِرْتُ أَنْ أُقَاتِلَ النَّاسَ حَتَّى يَقُولُوا لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ فَمَنْ قَالَ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ فَقَدْ عَصَمَ مِنِّي نَفْسَهُ وَمَالَهُ إِلَّا بِحَقِّهِ وَحِسَابُهُ عَلَى اللَّهِ رَوَاهُ عُمَرُ وَابْنُ عُمَرَ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ] أخرجه مسلم
(1/52 ، رقم 21) ، والنسائى (6/4 ، رقم 3090)[
অর্থ: আবু হুরায়রাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (সাঃ) বলেছেন, আমি মানুষের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য আদিষ্ট হয়েছি যতক্ষণ না তারা বলে “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ” সুতরাং যে ব্যাক্তি “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ” এর সাক্ষ্য দিবে তাঁর জান ও মাল-সম্পদ আমার থেকে নিরাপদ। তবে ইসলামের কোনো হক্ ব্যাতীত। আর তাঁর অন্তরের হিসাব আল্লাহ তাআলার উপর ন্যস্ত। (বুখারী, মুসলিম ১/৫২,হাঃ নং-২১। নাসায়ী-৬/৪ হাঃ নং৩০৯০)
পথভ্রষ্ট আলিমগণ সম্পর্কে রাসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সতর্কবাণী-
আবূ যার (রাযিঃ) বলেছেন, “আমি রাসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নিকটে একদিন উপস্থিত ছিলাম এবং আমি তাকে বলতে শুনেছি, ‘এমন কিছু রয়েছে যেটির ব্যাপারে আমি আমার উম্মাহ্-এর জন্য দাজ্জালের অপেক্ষাও অধিক ভয় করি।’ তখন আমি ভীত হয়ে পড়লাম, তাই আমি বললাম, ‘হে আল্লাহ্র রসূল রাসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! এটি কোন জিনিস, যার ব্যাপারে আপনি আপনার উম্মাহ্-এর জন্য দাজ্জালের চাইতেও অধিক ভয় করেন?’ তিনি [রাসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] বললেন, ‘পথভ্রষ্ট ’আলিম গণ।’”
-মুসনাদ আহমাদ, হাদীস নং. ২০৩৩৫
নবী রাসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
“নিশ্চয়ই আমি আমার উম্মাহ্-এর জন্য কোন কিছুরই ভয় করি না, পথভ্রষ্ট ’আলিমগণ ব্যতীত। এভাবে, যখন আমার উম্মাহ্-এর বিরুদ্ধে তলোয়ার উঠানো হবে, এটা তুলে নেওয়া হবে না বিচার দিবস পর্যন্ত।”
-মুসনাদ আহমাদ, হাদীসঃ নং. ১৬৪৯৩, ২১৩৬০, ৩১৩৫৯, ২০৩৩৪, এবং, আদ্-দারিমী, হাদীস নং. ২১১ ও ২১৬, এবং এ সবগুলো সংগ্রহই যথার্থ/খাঁটি হিসেবে শ্রেণীবদ্ধ করা হয়েছে।
অতএব, হে মুসলিম জাতি !
সাবধান ও সতর্ক হৌন এসব আলিমদের ব্যাপারে। যাদের সম্পর্কে রাসূল রাসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ ভবিষ্যৎ বাণী করে গেছেন। আল্লাহ আমাদের এসব আলেমদের ফেতনা থেকে হেফাযত করুন। আমিন।
আমরা যারা ঈমান এনেছি তারা মহান আল্লাহ তা’আলার সন্তুষ্টির লক্ষ্যে বিভিন্ন ইবাদত করে থাকি । কিন্তু আল্লাহ তা’আলার নিকট কোন আমলটি বেশী প্রিয় বা সর্বোত্তম আমল তা অনেকেই জানিনা । আল্লাহ রব্বুল আলামীন জিহাদকে উত্তম আমল বলে ঘোষনা করেছেন । এ সম্পর্কে মহান আল্লাহ তা’আলা বলেনঃ
’’তোমরা কি হাজীদের পানি পান করানোকে এবং মাসজিদুল হারামের আবাদ করাকে সেই ব্যক্তির কাজের সমান সাব্যস্ত করে রেখেছ ,যে ব্যক্তি আল্লাহ ও কিয়ামত দিবসের প্রতি ঈমান এনেছে ও আল্লাহর পথে জিহাদ করেছে? তারা কখনই আল্লাহর নিকট সমান নহে; আর আল্লাহ জালেম লোকদের হেদায়েত করেন না।’’ ( সুরা তাওবাঃ১৯)
উক্ত আয়াতের তাফসীরে পৃথিবীর শেষ্ঠ তাফসীরকারক ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন যে তৎকালীন সময়ে আরবের লোকেরা বলতো ;কাবাঘরের খিদমত করা হাজীদেরকে পানি পান করানো ঈমান ও জিহাদ হতে উত্তম । যেহেতু আমরা এর দুটো কাজের আঞ্জাম দিয়ে যাচ্ছি, সেহেতু আমাদের চেয়ে উত্তম আর কেউ হতে পারে না।
আল্লাহ তাআলা এখানে তাদের অহংকার,দম্ভ এবং সত্য থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার জবাব দিয়েছেন মহান আল্লাহ বলেনঃ হে কাফিরগণ! যখন তোমাদের সামনে আমার আয়াতসমূহ পাঠ করা হয় তখন তোমরা তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নাও এবং সম্পূর্ণ উদাসীন থাকো । সুতরাং তোমাদের এসব গর্ব ও অহংকার বাজে ও অযৌত্তিক । কেননা তোমাদের সমস্ত সৎকর্মই তো শিরক খেয়ে ফেলে। তাই আল্লাহ বলেনঃ এ দুটি দল কখনই সমান হতে পারে না । যদি তারা আল্লাহর ঘর কাবা এর আবাদকারী বটে কিন্তু আল্লাহ তাদের নামকরণ করেছেন যালিমরূপে । আর কাবা মসজিদের খেদমত বা আবাদ করাকে সম্পূর্ণ বৃথা ঘোষণা দিয়েছেন । (তাফসীর ইবনে কাসীর ৯ম খন্ড ৬৬০ পৃষ্টা।)
হযরত আবু উমামা বাহেলি (রাঃ) বর্ণনা করেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
“ইসলামের কড়াগুলো একটি একটি করে ভেঙ্গে যাবে। একটি ভেঙ্গে যাওয়ার পর মানুষ তার পরেরটি আঁকড়ে ধরবে। তো সর্বপ্রথম যে কড়াটি ভাঙবে, সেটি হল ইসলামী শাসন। আর সর্বশেষটি হল নামাজ”।
(সু’আবুল ইমান খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ২৩৬; আল মু’জামুল কাবীর খণ্ড ৮, পৃষ্ঠা ৯৮; মাওয়ারিদুয যাম’আন খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৮৭)
হে বাংলাদেশের প্রানপ্রিয় আলেম-ওলামাবৃন্দ এবং মুসলিম ভাই ও বোনেরা, আপনাদের উপর আল্লাহর অশেষ রহমত, করুনা ও শান্তি বর্ষিত হক।
আল্লাহকে ভয় করুন ! আল্লাহর কসম করে বলছি আল্লাহর কাছে আপনাদের কে জবাব দিতে হবে। ইতিহাস ও আপনাদের ক্ষমা করবে না।
হে সম্মানিত আলেম-ওলামাবৃন্দ, আপনারা আজ জাতিকে পথ দেখান ! আপনাদের কিতাবগুলোর শিক্ষা শুধু মসজিদ বা মাদ্রাসার ভিতরে বন্ধ না রেখে প্রকাশ করুন। জ্বিহাদের বয়ান করুন ! সত্য তুলে ধরুন ! আল্লাহর কসম করে বলছি আলাহর কাছে আপনাদের জবাব দিতে হবে, সেটা অবশ্যই আপ্নারাই ভালো যাবেন।
হে সম্মানিত আলেম-ওলামাবৃন্দ, কুরআন'র যে আয়াত ও হাদিসগুলো আপনারা শিক্ষা দেন । আজ জাতির এই ক্লান্তিলগ্নে আপনারা তার বাস্তবে প্রয়োগ করুন। আজই তো সেই সময় যেই সময়ের কথা আপনারা শিক্ষা দিতেন !
হে সম্মানিত আলেম-ওলামাবৃন্দ, আল্লাহকে ভয় করুন। কুফফার আমেরিকা বা তার পা চাটা গোলামদের বিরুদ্ধে একতাবদ্ধ হন ! আজ যদি কাফেরদের ভই করে চুপ করে থাকেন , ইসলামের প্রতি আঘাত কে আপনারা চুপ করে সহ্য করেন, আমাদের সম্মানিত আলেম ও হাফেজদের রক্তের সাথে বেইমানী করেন তবে আল্লাহকে ভয় করুন ।
যে আমার মুসলিম ভাই ও বোনেরা, আপনারা জেগে উঠুন ! আর কতকাল না দেখার ভান করে চোখ বন্ধ করে বসে থাকবেন !!
হে আমার মুসলিম ভাই ও বোনেরা, আজ বাংলাদেশ সহ বিভিন্ন মুসলিম দেশে মুরতাদ সরকার থাকার কারনে, সাধারন মুসলিমেরা মুরতাদ ও নাস্তিকদের কাছে অপদস্থ হচ্ছে। আল্লাহ্ ও রাসুল (সঃ) সম্পর্কে নানা অশালিন বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে এবং কুটুক্তি করা হচ্ছে, যেগুলো এমনকি কাফেরাও করতে সাহস পায়না। তাই, আজ সময় এসেছে জেগে উঠার। নাস্তিক মুরতাদদের হাত থেকে ইসলাম তথা আল্লাহ্ ও তার রাসুল (সঃ) এর সম্মান বাঁচাতে আপনাদের এগিয়ে আসার আহবান করছি। মনে রাখবেন, নিন্দুকের নিন্দার চেয়ে আল্লাহর সন্তুষ্টি অনেক বড়। আল্লাহ্ আমাদেরকে খেলাফত প্রতিষ্টার জন্য একজন যোগ্য নাবিক হওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।
হে আল্লাহ্ ! তুমি সাক্ষী থেকো ! আমরা আমাদের সাধ্যমত পোঁছে দিয়েছি ।
হযরত জাবির ইবনে সামুরা থেকে বর্ণিত,, আল্লাহর রাসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,, ""এই দ্বীন চিরকাল বিদ্যমান থাকবে | এর পক্ষে একদল মুসলমান কেয়ামত অবধি লড়াই অব্যাহত রাখবে"".
সুনানে আবী দাউদ:খন্ড ৩:পৃষ্ঠা ১৮::;সহীহ মুসলিম:খন্ড ৩:পৃষ্ঠা ১৫২৪





জীবন যতদিন আছে ততদিন আমরা সত্যের পক্ষে এবং বাতিলের বিপক্ষে কলম চালাব। কেহ আমাদের আটকাতে পারবে না। ইনশাআল্লাহ। সত্য প্রচার করাই আমাদের প্রধান কাজ ! এতে অনেকেই আমাদের বিরোদ্ধে চলে যাবে ! তাতে কোনো আফসোস নেই ! কারণ আমরা সত্য প্রচার করি আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলকে খুশি করার জন্য ! যারা সত্য জানার পরেও ভুল পথ কে আকড়ে ধরে পড়ে থাকে তারা্রাআমাদের প্রধান শত্রু!
উত্তরমুছুনইনশাআল্লাহ সত্য প্রচার করাই আমাদের প্রধান কাজ
মুছুন