রবিবার, ২৭ এপ্রিল, ২০১৪

কেন শুধু জামাতে সালাতর দিকে ডাকবো!

Imtiaz Salim

Dawoat n Daowah
কেন মানুষদের *শুধু* জামাতে সালাত আদায়ের দিকে ডাকবো, কেন **পাশাপাশি* খালেদা হাসিনার জুলুম আর মুনকার অপসারণের হাদিস গুলো স্মরণ করিয়ে দিয়ে দারুল ইসলাম প্রতিষ্ঠার মতো ফরয হুকুমের দিকে ডাকবো না?!?! রাসুলুল্লাহ (সা) কি *শুধু* দাড়ি রেখেছিলেন নাকি উনি পাশাপাশি নিজের শরীরের রক্ত ঝরিয়েছিলেন তায়েফের ময়দানে ইসলামী রাষ্ট্রের জন্য। মক্কী জীবনে যখন দাও'আহ করা ফরয হয়নি, তখন সাহাবারা নিজেদের জীবন পর্যন্ত দিয়ে দিয়েছিলেন আল্লাহর আইন প্রতিষ্ঠার (তাওহীদুল ইবাদাহ) জন্য, আর বর্তমানে ফরয কে অবহেলা করে *শুধু* নফল হুকুমের জন্য আমরা ঘাম ঝরাতে রাজি।

ইমাম ইবনুল কায়্যিম আল জাওযিয়াহ (র) বলেছিলেনঃ

"শয়তান কিছু মানুষদের বিপথে নিয়ে গেছে তাদের চোখে কিছু নফল ইবাদত যেমন নফল সালাহ, সিয়ামকে সুন্দর বানিয়ে দেয়ার মাধ্যমে এবং একই সময় তাদের দ্বারা অবহেলিত করিয়ে নিচ্ছে 'আল-মারুফ' (সর্ব প্রকার ভাল কাজ) এর দিকে মানুষদের ডাকা এবং 'আল-মুনকার' (সর্ব প্রকার অন্যায়) এর মূলোৎপাটনের ফরয কাজসমূহকে, এই বিপথে এমন ভাবে নেয়া হচ্ছে যে তারা নিজেদের যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও ইচ্ছা পোষণ করেনা এই ফরয হুকুম পালনের। এইরুপ লোকদের ফুকাহারা বিবেচনা করে ধর্মের দাঁড়িপাল্লার একেবারে নীচে; কারন আমাদের ধর্মের মুল নির্যাস হল সেটাই করা যেটা আল্লাহ ফরয করে দিয়েছেন। যে ব্যক্তি তার এই ফরয হুকুম সমূহকে পালন করে না সে প্রকৃতপক্ষে যে পাপ কাজ করে তার চেয়েও খারাপ"

[আ'লাম আল মুয়াক্কি'ইন] 


বর্তমানে মুসলিমরা চিন্তার দিক থেকে কতটা পতিত (declined) সেটা বোঝার একটা এঙ্গেল হল তারা সুন্নাত আমলকে ফরয পর্যায়ে নিয়ে গেছে আর অন্যদিকে খোদ ফরয আমলের ব্যাপারেই বেখেয়াল। তাই দাড়ি কেন এক মুঠো না সেটা অনেকের জন্য প্রকৃত মুসলিম হওয়ার গুরুত্বপূর্ণ মাপকাঠি কিন্তু কেউ যদি *সুন্নত* দাড়ি রেখে মুনকার (অন্যায়) অপসারণের মতো **ফরয** হুকুম এর ব্যাপারে অবহেলা দেখায় তাহলে কিছু মুসলিমদের চোখে সেটাতে কোন সমস্যা নাই!!! সাইয়্যিদ কুতুব (র) কে পারলে কবর থেকে তুলে ওনারা জিজ্ঞাস করতেনঃ "ভাই, আপনি কেন ক্লিন শেভড ছিলেন", উনি যে ফরয হুকুম পালনের জন্য জান পর্যন্ত দিয়ে দিলেন সেটা ওনাদের জন্য মুখ্য না।


"যে ব্যক্তি সঠিক পথ প্রকাশিত হওয়ার পরও রাসুলের বিরোধিতা করে এবং মুমিনদের পথ বাদ দিয়ে ভিন্ন পথ অনুসরণ করে,আমি তাকে সে পথেই ফিরাব যে,সে ফিরে যায়,আর তাকে জাহান্নামে দগ্ধ করব,কত মন্দই না সে আবাসস্থল"।

(সূরাঃ আন-নিসা ৪/১১৫)


পাগড়ী পরা কি সবার জন্যই সুন্নাত?

এ সম্পর্কে শরী‘আতের বিধান হলঃ
পাগড়ী ব্যবহার করা কারো জন্যই সুন্নত নয়। এটি হ’ল দেশ ও অঞ্চল ভিত্তিক আদত বা অভ্যাস। রসূল (সাঃ) পাগড়ী পরেছিলেন এ কারণে যে, পাগড়ী পরিধান করা ছিল তাঁর সম্প্রদায়ের লোকদের অভ্যাসগত পোষাক। সে সময়ের আরব মুসলিম ও অমুসলিম সকলে পাগড়ী পরত। তিনি কখনও পাগড়ী (এমনকি টুপি) ব্যবহার করার নির্দেশও দেননি। পাগড়ী পরিধান করার ফাযীলত মর্মে কোন সহীহ্ হাদীসও বর্ণিত হয়নি।
***বিস্তারিত দ্রঃ জাল ও য‘ঈফ হাদীস সিরিজঃ ১২৯, ১৫৯, ৩৯৫, ১২১৭, ১২৯৬, ২৩৪৭, ৩০৫২।
শায়খ উসায়মীন, শায়খ বিন বায এবং সঊদী আরবের সর্বোচ্চ ফাতাওয়া বোর্ড এ মর্মে ফাতওয়া দিয়েছেন যে, পাগড়ী ব্যবহার করা সুন্নত নয়।
As for wearing turbans, this is of the permissible things, and not a Sunnah as you think. It is more preferable to wear what your people wear on their heads like the Ghutrah, Shimagh and the like.
http://www.alifta.com/Fatawa/FatawaDetails.aspx?View=Page&PageID=9336&PageNo=1&BookID=7#P43



কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন